আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বিমান হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলার এ খবর দিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন ১৫ জন, যাদের মধ্যে ৩টি শিশুও আছে। কেবল সাকসাকিয়েহ শহরে চালানো এক হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হন।
আরেক হামলায় নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেলে চালানো একজন সিরীয় নাগরিক নিহত এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে আহত হন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রথম হামলার পর সরে যাওয়ার সময় আবারো ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে বাবা নিহত হন। তৃতীয় দফায় মেয়েটিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইডিএফের দাবি, ওই এলাকায় সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল। বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এ হামলায় ৩ জন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা আর কতজন বেসামরিক নাগরিক, সে তথ্য আলাদা করে জানানো হয়নি।
ইসরায়েল বলছে, উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা বলয়’ গড়তেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এরপরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে আসছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় মোট ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন।
—জা.অর্থনীতি/এনজে