Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 06:16 am

রাসুল (সা.)-এর দাম্পত্য জীবনের অদেখা রূপ

image

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত প্রবণতা হলো—বাইরের মানুষের কাছে নিজেকে ভদ্র ও সজ্জন হিসেবে প্র্কাশ করা। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের আসল লিটমাস টেস্ট হলো তার নিজ ঘর। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সিরাত আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, বাইরের জগতের বাহবা নয়, বরং আপনজনের চোখে আপনার অবস্থানই আপনার প্রকৃত পরিচয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষভাগে একাধিক বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের খুঁটিনাটি সমাধানগুলো উম্মাহর সামনে তুলে ধরা। তিনি শুধু তাত্ত্বিক কথা বলেননি, বরং বহু বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে স্ত্রীদের প্রতি তাঁর আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা হাতে-কলমে শিখিয়েছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে (স্ত্রীর কাছে) উত্তম। এটি কোনো সাধারণ উক্তি নয়, বরং এটি একজন পুরুষের চারিত্রিক সনদ। বাইরের দুনিয়ায় আমরা কৃত্রিম আচরণ দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করতে পারি, কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যার সাথে থাকা হয়, তার কাছে ভালো সাজা সম্ভব নয় যদি না মানুষটি ভেতর থেকে প্রকৃতই সুন্দর হয়।

মুমিনের সংজ্ঞায় রাসুল (সা.) পরিবারের প্রতি সদয় হওয়াকে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে রেখেছেন। তিনি বলেছেন, সর্বোত্তম মুমিন সে, যার ব্যবহার সবচেয়ে ভালো এবং যে নিজের পরিবারের প্রতি কোমল। এখান থেকে বোঝা যায়, ঘরের মানুষের সাথে কর্কশ ব্যবহার করে কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের সাথে কেবল একজন স্বামী হিসেবে নন, বরং একজন বন্ধু হিসেবে মিশতেন। তিনি স্ত্রীদের আবেগ বুঝতেন, তাদের সাথে আমোদ-প্রমোদ করতেন এবং প্রয়োজনে ঘরের কাজেও পূর্ণ সহযোগিতা করতেন। তিনি শিখিয়েছেন, স্ত্রীকে ভালোবাসার কথা মুখে বলা এবং কাজে প্রমাণ করা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি সুন্নাহ।

সাময়িক প্রশংসা কুড়ানো খুব সহজ, কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের জীবনসঙ্গিনীর কাছে একজন শ্রদ্ধেয় এবং আদরণীয় মানুষ হওয়াটাই আসল সার্থকতা। রাসুল (সা.)-এর জীবন আমাদের বার্তা দেয়—যদি আমরা আমাদের ইহকাল ও পরকালকে সুন্দর করতে চাই, তবে সবার আগে নিজের ঘরকে ভালোবাসার নন্দনকানন বানাতে হবে।

তাই বাইরের লৌকিকতা ছেড়ে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কালজয়ী আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করি। মনে রাখবেন, পরিবারের সদস্যদের চোখে আপনি যদি একজন ভালো মানুষ হতে পারেন, তবেই আপনি আল্লাহর কাছেও প্রিয় হতে পারবেন।

 জা. অর্থনীতি/ উমর