বাস্তবে সুস্থ বিবেকের অধিকারী কোনো মানুষই চায় না খারাপ হতে। চায় না মন্দ কাজ করতে কিংবা অপরাধী হতে। কিন্তু মানুষের স্বভাবজাত দুর্বলতা, আত্মনিয়ন্ত্রণে শিথিলতা এবং নফস ও শয়তানের প্রবঞ্চনা তাকে পাপের কাজে লিপ্ত করে ফেলে। তাছাড়া দুনিয়া যেহেতু পরীক্ষার জায়গা, এখানে ভালো ও মন্দ উভয় কাজের শক্তি দিয়ে মানুষকে পাঠানো হয়েছে। এরপর ভালো ও নেক কাজে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মন্দ ও গুনাহের কাজে ঘোষণা করা হয়েছে শাস্তি। সেই শাস্তি থেকেই বাঁচার উপায় হলো- তওবা ও ইস্তিগফার।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, গুনাহ বা পাপকাজ ত্যাগ করার উপকারিতা হচ্ছে যে,
১. শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
২. মানুষের অন্তরে এই ব্যক্তির বিষয়ে মর্যাদা লাভ হয়।
৩. পূর্বে লোকেরা ক্ষতি করে থাকলেও পরবর্তীতে এসব লোকদের কাছ থেকে সাহায্য এবং নিরাপত্তা লাভ হয়।
৪. লোকেরা যদি গীবত করে থাকে, তাহলে তার সম্মান রক্ষা পায়।
৫. আল্লাহতায়ালা তার সব নেক দোয়া কবুল করেন।
৬. আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ হয়।
৭. ফেরেশতাদের নৈকট্য লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
৮. মানুষ ও জিনদের মধ্য থেকে যারা শয়তান, তারা দূরে সরে যায়।
৯. লোকেরা তাকে সাহায্য করার জন্য, তার চাহিদা পূরণ করার জন্যে এবং তার সাহচর্য ও ভালোবাসা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে।
১০. সে মৃত্যুকে ভয় করবে না, বরং আল্লাহতায়ালার সঙ্গে সাক্ষাত লাভের জন্য ও তার কাছ থেকে পুরষ্কার পাওয়ার জন্যে আগ্রহী হবে।
১১. দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হবে এবং পরকালকে অনেক মূল্যবান মনে করবে।
১২. পরকালে অনেক বড় রাজত্ব ও মর্যাদা পাওয়ার জন্যে চেষ্টা করবে।
১৩. আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ ফিরে পাবে।
১৪. ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে।
১৫. আরশ বহনকারী ফেরেশতা ও আরশের চারপাশে আল্লাহর প্রশংসাকারী ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করবে।
১৬. কেরামান-কাতেবিন নামের দুই ফেরেশতা তার ওপর খুশি থাকবে এবং তারা তার জন্যে দোয়া করবে।
১৭. তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও ঈমান বৃদ্ধি পাবে।
১৮. আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা অর্জিত হবে।
১৯. আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত কামনা করবে।
২০. তওবা করে পবিত্র জীবন-যাপনের ওপরে সন্তুষ্ট থাকবে।
২১. আল্লাহতায়ারা তাকে এমন সুখ ও শান্তি দান করবেন, যা সে যখন পাপ কাজে লিপ্ত ছিলো তখন এমন সুখ থেকে বঞ্চিত ছিলো। -সূত্র: আল-ফাওয়ায়েদ, পৃষ্ঠা: ২৫৫
জা. অর্থনীতি/ উমর