Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:06 am

অন্যের উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই ব্যবহার প্রসঙ্গে ইসলাম কি বলে?

image

 বর্তমান যুগে ইন্টারনেট আমাদের মৌলিক চাহিদার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে বা কারো বাসায় গিয়ে মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকলে আমরা প্রায়ই আশেপাশে কোনো 'উন্মুক্ত' বা পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াই-ফাই আছে কি না খুঁজি। পাসওয়ার্ড ছাড়া নেটওয়ার্ক পেলেই আমরা তা ব্যবহার শুরু করি। কিন্তু একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের কি ভাবা উচিত—কারও অনুমতি ছাড়া তার এই ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার করা কি ইসলামে বৈধ? ইসলামে অন্যের সম্পদ ভোগ বা আত্মসাৎ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সম্পদ বলতে আমরা সাধারণত টাকা-পয়সা বা জমিজমাকে বুঝি।

কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে ডাটা বা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথও একটি মূল্যবান সম্পদ। কারণ, গ্রাহক এটি অর্থের বিনিময়ে কেনেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮) অনেকের ধারণা, ওয়াই-ফাই যদি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত না থাকে, তবে তা ব্যবহার করা যাবে। এটি একটি ভুল ধারণা। অনেক সময় কারিগরি অজ্ঞতার কারণে মালিক তার নেটওয়ার্কটি লক করতে পারেন না।

পাসওয়ার্ড না থাকা মানেই এই নয় যে, তিনি এটি সবার জন্য দান করে দিয়েছেন। মালিকের অনুমতি ছাড়া তার কেনা ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা এক ধরনের ডিজিটাল চুরি, যা শরয়ি দৃষ্টিতে 'হারাম' বা নিষিদ্ধ। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন: বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, নির্দিষ্ট পাবলিক লাইব্রেরি বা বড় হোটেল কর্তৃপক্ষ যখন সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য 'ফ্রি ওয়াই-ফাই' জোন ঘোষণা করে। সেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য অনুমতি স্পষ্ট থাকে। এসব ক্ষেত্রে শর্ত মেনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা বৈধ।

ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক যেখানে ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ থেকে বিরত থাকা একজন মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সম্পদের লেনদেন হতে হবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে। একজন মুসলিমের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি কেবল নামাজ-রোজায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল আচরণে সততা থাকা বাঞ্ছনীয়। অন্যের অজান্তে তার ইন্টারনেট ব্যবহার করে কয়েক মেগাবাইট ডাটা বাঁচানো হয়তো পার্থিব দৃষ্টিতে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর আদালতে প্রতিটি অণু পরিমাণ অন্যায়ের হিসাব দিতে হবে। ডিজিটাল দুনিয়ায় আমরা যেন অন্যের হক নষ্ট না করি। আমাদের সততা বজায় থাকুক ইন্টারনেটের অদৃশ্য জগতেও।

জা. অর্থনীতি/ উমর