আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ইসরায়েলের একটি অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তাদের প্রতিরোধ যোদ্ধারা 'হার্মিস ৪৫০জেড' মডেলের ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরবর্তীতে এই ড্রোনটি ধ্বংস হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের একটি ড্রোন লেবাননের আকাশসীমায় টহল দেওয়ার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর অন্তত পাঁচজন যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর আগে মাজদাল জউন শহরে ইসরায়েলের চালানো টানা দুটি বিমান হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হন। এই হামলায় তিনজন উদ্ধারকর্মী এবং লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে এবং স্থানীয়ভাবে তীব্র নিন্দার সৃষ্টি করেছে।
চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হিজবুল্লাহ এবং লেবানিজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল ক্রমাগতভাবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে তাদের ভূখণ্ডে উসকানিমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং হুমকি দূর করতেই এই পাল্টা অভিযানগুলো পরিচালনা করছে। ড্রোন ভূপাতিত করার এই ঘটনাটি মূলত ইসরায়েলি নজরদারির বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৬৩ জনে। নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশই সাধারণ নাগরিক, নারী ও শিশু এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী মানবিক কর্মী। ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর নাবাতিয়েহসহ দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বড় ধরনের সামরিক তৎপরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেএ/অভি