Print Date & Time : 03 November 2026 Tuesday 12:21 pm

সংগ্রামী এক নারী উদ্যোক্তা পাবনার অনুজা

image

কলিট তালুকদার, পাবনা: পাবনার নারীরা শুধু নিজের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটাচ্ছে এমনটি না। নিজের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

নারী উদ্যোক্তা মহলে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে জায়গা করেই শুধু নেননি। নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন, করেছেন বহু নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। তাদেরই এক নারী উদ্যোক্তা অনুজা সাহা এ্যানি।

পাবনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক (অবঃ) অমূল্য সাহা ও অঞ্জনা সাহার একমাত্র সন্তান অনুজা সাহা। বাবা-মার অনেক স্বপ্ন ছিল তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান অনুজাকে ঘিরে। ছোট থেকেই নৃত্য এবং সঙ্গীতে বেশ ভাল ছিল। নানা অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে অর্জন করেন নানা পুরস্কার ও সনদ।

আলাপকালে অনুজা জানান, এইচএসসি পাশ করার পর আকস্মিক তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলজুড়ে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। নাম রাখা হয় অর্ণব। স্বামীর ব্যবসায়িক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে সংসার জীবণে দিশেহারা হয়ে পড়েন অনুজা। এরই মধ্যে মাস্টার্স পাশ করে সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স পাশ করেন অনুজা। মানুষ গড়ার কারিগর বাবা অমূল্য সাহার বহু প্রিয় ছাত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে চাকরি করলেও অনেক চেষ্টা তদবির করে নিজের জন্য একটি সরকারী বা বেসরকারী চাকরি জোগাড় করতে পারেননি। পত্র-পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের নারী উদ্যোক্তার গল্প পড়ে উদ্ধুদ্ধ হন। চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করার পরিকল্পনা নেন তিনি।

অনুজার মা অঞ্জনা সাহা মেয়ের ব্যবসা করার ব্যাপারে প্রথম দিকে অনাগ্রহী ছিলেন। সংসার জীবনের নির্মম বাস্তবতার কষাঘাতে মেয়ে যখন জর্জরিত, মা তখন সম্মতি দেন ব্যবসা করার। অনুজা সাহার মা ছিলেন সুদক্ষ একজন রাধুনী। সিদ্ধান্ত নেন খাবারের ব্যবসা করার। মায়ের সহযোগিতায় স্বল্প পুঁজি নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে খাবারের হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় অর্ণব এন্ড কোং। হোম ডেলিভারি সার্ভিস থেকে নানা ধরনের পিঠা, কেক, মিষ্টি, বেকারি আইটেম, সাদা ভাত, বিরিয়ানি সরবরাহ শুরু হয় পাবনার নানা স্থানে।

ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। পুঁজির পরিমাণও বেড়ে যায়। এখানেই থেমে যাননি অনুজা। বিসিক, যুব উন্নয়ন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষন নেন। শুরু করেন বুটিক হাউস ব্যবসা। সেটাও আলোর মুখ দেখতে থাকে। পাশাপাশি নৃত্য ও সঙ্গীত চর্চায় পারদর্শী অনুজা গড়ে তোলেন ‘মন ময়ূরী’ নামের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে আর্ট, নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি, সুন্দর হাতের লেখা শেখানো শুরু হয় কোমলমতি শিশুদের। তবে বর্তমানে সে সব বাদ দিয়ে পাবনা মধ্য শহরের জেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি মার্কেটে গড়ে তোলেন মায়ের পরশ নামে খাবার হোটেল।

সকালের ১০ টাকার নাস্তায় রুটি, পরেটা সবজি, ডাল, দুপুর ও রাতে ১শ’ টাকায় ভাল খাবার, বিকেল-সন্ধ্যায় লুচি, আলুরদম, পাপড়ী চাটসহ নানা স্বাদের মুখোরোচক খাবার। খাবারের আইটেম প্যাকেজ ভেদে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাম। তবে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে দেড়শ’ টাকা আনলিমিটেড কাচ্চি বিরিয়ানির অফার বেশ সাড়া ফেলেছে।

স্থানীয়দের মতে, অনুজার মত নারীরাই একদিন শুধু পাবনা নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে দেবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে